বৃহস্পতিবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৭

অ্যাডেলের এক দফা, এক দাবি


অ্যাডেলতারকারা নানা ধরনের সামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে যান। বিভিন্ন ইস্যুতে আওয়াজ তোলেন। দুর্যোগের সময় দাঁড়ান মানুষের পাশে। কিন্তু একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর সেই ইস্যু, দুর্যোগ বা কর্মকাণ্ডের সঙ্গে কজন লেগে থাকতে পারেন? কজনই বা মনে রাখেন দুর্গতদের ভবিষ্যতের কথা।
হয়তো তাঁদের সংখ্যা খুব কম। ব্রিটিশ কণ্ঠশিল্পী অ্যাডেল তাঁদের একজন। নিজের কাজ ও দায়িত্ববোধ ভোলেন না তিনি। ছয় মাস পরও অ্যাডেল সোচ্চার লন্ডনের গ্রেনফেল টাওয়ার অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের অধিকার নিশ্চিতে। এখনো কাজ করে যাচ্ছেন দুর্গতদের জন্য।
গত জুন মাসে যুক্তরাজ্যের লন্ডনের গ্রেনফেল টাওয়ারে ঘটে যায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। তাতে প্রাণ হারান প্রায় ৭১ জন। সেই দুর্ঘটনার রাত থেকেই এ নিয়ে সোচ্চার অ্যাডেল। গভীর রাতেই দুর্ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়েছিলেন, কথা বলেছিলেন দুর্গত ব্যক্তিদের সঙ্গে। তাঁদের সহায়তায় তহবিলও গঠন করেছিলেন।
এখন ওই দুর্ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছেন এই গায়িকা। সম্প্রতি টুইটারে ভক্তদের প্রতি একটি পিটিশনে সই করার অনুরোধ করেছেন তিনি। সেখানে বলা হয়েছে, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী যেন গ্রেনফেল টাওয়ার দুর্ঘটনার পেছনের আসল কারণ উদ্‌ঘাটনে জোর দেন, এর যেন সুষ্ঠু তদন্ত হয়। অ্যাডেলের একটাই দাবি, এই দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে যেন অন্যায় না হয়।
ছয় মাস পার হয়ে গেলেও গ্রেনফেল টাওয়ার দুর্ঘটনার তদন্তে কোনো প্রত্যক্ষ অগ্রগতি না হওয়ায় কিছুটা আক্ষেপ রয়েছে অ্যাডেলের। এক টুইটে তিনি লিখেছেন, ‘আমাদের থেমে গেলে চলবে না। এ ঘটনা নিয়ে আমাদের কথা চালিয়ে যেতে হবে। কিছু যে হচ্ছে না, কিছু এগোচ্ছে না, এটা বলে যেতে হবে।’ এ যেন অ্যাডেলের এক দফা, এক দাবি।

বুধবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৭

৪ বছর পর ফিরলেন ভাবনা


৪ বছর পর ফিরলেন ভাবনা
সময়ের অন্যতম আলোচিত মডেল-অভিনেত্রী ভাবনা দীর্ঘ চার বছর পর কাজ করলেন একটি টিভি বিজ্ঞাপনে। আরেক জনপ্রিয় নির্মাতা অনিমেষ আইচের পরিচালনায় নির্মিত এই বিজ্ঞাপনটি এসিআই ওয়াটার পাম্পের।
সম্প্রতি বিজ্ঞাপনটির শুটিং সম্পন্ন হয়েছে। এই বিজ্ঞাপনটির মধ্য দিয়ে প্রায় ছয় বছর পর বিজ্ঞাপন নির্মাণ করলেন অনিমেষ।
এদিকে জানা গেছে এই বিজ্ঞাপনটির পর আগামী সপ্তাহেই ভাবনা কাজ করতে যাচ্ছেন হুয়াওয়ে মুঠোফোনের একটি বিজ্ঞাপনচিত্রে।

ক্যাটরিনার মন ভালো করতে সালমান খানের নাচ

সালমান খান ও ক্যাটরিনা কাইফের ‘টাইগার জিন্দা হ্যায়’ ছবিটি মুক্তি পাবে বড়দিন উপলক্ষে ২২ ডিসেম্বর। এখন চলছে প্রচারণার ব্যস্ততা।
ক্যাটরিনার মন ভালো করতে সালমান খানের নাচ
সম্প্রতি সিনেমাটির প্রচারে একটি ড্যান্স রিয়েলিটি শো-তে এসেছিলেন সালমান খান ও ক্যাটরিনা কাইফ। ওই অনুষ্ঠানে এমন ঘটনা ঘটল যাতে চোখের জল বাঁধ মানল না ক্যাটরিনার। অনুষ্ঠানে এক প্রতিযোগী সালমানের ‘তেরে নাম’ সিনেমার একটি গানে পারফর্ম করেন। আর তা দেখে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন ক্যাটরিনা। কেঁদেই ফেলেন তিনি।
এরপর শোয়ের নির্মাতারা কিছুক্ষণের জন্য শ্যুটিং বন্ধ রাখেন। জানা গেছে, ক্যাটরিনার মন ভালো করতে এগিয়ে আসেন সালমান খান। তাকে হাসাতে নাচেনও তিনি। নিজের সুপারহিট সিনেমা ‘সুলতান’র ‘জগ ঘুমিয়া’ গানে নাচতে দেখা যায় সালমানকে। আর নাচতে গিয়ে তিনি বারবার ক্যাটরিনার দিকে ইশারা করছিলেন, যাতে বলিউড ডিভা একটু হাসেন। এরপর শো-র জাজ ও কোরিওগ্রাফার রেমো ডি সুজাও সালমানের সঙ্গে নাচে যোগ দেন।
এই ছবি দিয়ে দীর্ঘদিনের বিরতি ভেঙ্গে পর্দার জুটি হয়ে ফিরছেন এই দুই তারকা। মাঝে সম্পর্কের বৈরিতায় অনেকেই ভেবেছিলেন আর কখনোই হয়তো ক্যাটের নায়ক হবেন সাল্লু ভাই।
কিন্তু ‘এক থা টাইগার’ ছবির সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে আবারও জুটি বাঁধলেন তারা। বেশ জমজমাট এক গল্পে নির্মিত হয়েছে ‘টাইগার জিন্দা হ্যায়’। বছরের শেষ ধামাকা হিসেবেই ধরা হচ্ছে এই ছবিটি।

নতুন মিশনে সানি লিওন!

বলিউডে হালের সবচেয়ে আবেদনময়ী অভিনেত্রী সানি লিওন। বলিউডে বেশ কয়েকটি সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। আর বলিউডের আইটেম গান মানেই তার গ্লামার উপস্থিতি।
নতুন মিশনে সানি লিওন!
সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে এ অভিনেত্রীর সিনেমা 'তেরা ইন্তেজার'। এরই মধ্যে নতুন মিশনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন এ অভিনেত্রী।
ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, একটি তামিল সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন সানি। কিন্তু এতে নিজের আবেদনময়ী ইমেজ ভেঙে সম্পূর্ণ ভিন্নরূপে হাজির হবেন তিনি। ঐতিহাসিক ঘরানার এ সিনেমাটির জন্য ১৫০ দিন বরাদ্দ করেছেন সানি।
এ প্রসঙ্গে সানি বলেন, ‘আমি নিশ্চিত, এই সিনেমার পর আমার ভাবমূর্তি সম্পূর্ণ পাল্টে যাবে। আমি সবসময়ই অ্যাকশন সিকোয়েন্স করতে পছন্দ করি। আমি এই ধরনের একটি চিত্রনাট্যের জন্য এতদিন অপেক্ষা করছিলাম এবং ইতোমধ্যে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছি।
তামিল, তেলেগু, মালায়ালাম ও হিন্দি ভাষায় নির্মিতব্য সিনেমাটির শুটিং আগামী ফেব্রুয়ারিতে শুরু হবে।

হাসপাতালের টয়লেট থেকে ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার

কুমিল্লা নগরীর সিডি প্যাথ অ্যান্ড হসপিটাল নামে একটি প্রাইভেট হাসপাতালের টয়লেট থেকে এক ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
হাসপাতালের টয়লেট থেকে ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার
আজ বুধবার দুপুরে আব্দুল সালাম (৪৫) নামে ব্যবসায়ীর মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
জানা যায়, সদর উপজেলার পাঁচথুবী ইউনিয়নের মিরপুর গ্রামের মৃত আব্দুল মোতালেবের ছেলে নিহত আব্দুল সালাম।
নিহতের স্ত্রী সোমা আক্তার জানান, গত মঙ্গলবার দুপুরে কুমিল্লা সিডি প্যাথ অ্যান্ড হসপিটালে ডাক্তার দেখাতে যান তার স্বামী আব্দুল সালাম। দুপুর সোয়া ২টার দিকে সর্বশেষ স্বামীর সঙ্গে তার মোবাইলে কথা হয়। তখন তার স্বামী তাকে জানিয়েছিলেন রিপোর্টের জন্য তিনি অপেক্ষা করছেন।
কিন্তু পরবর্তীতে বিকেল ৩টা থেকে তাকে আর মোবাইল ফোনে পাওয়া যায়নি। ওই দিন সন্ধ্যায় হাসপাতালে গিয়ে স্বামীর খোঁজ করে কোনো সন্ধান না পেয়ে বুধবার সকালে এ বিষয়ে কোতয়ালী মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়।
এ বিষয়ে সিডি প্যাথ অ্যান্ড হাসপিটাল কর্তৃপক্ষ জানায়, বুধবার সকাল থেকে হাসপাতালের ২য় তলার একটি টয়লেটের দরজা দীর্ঘক্ষণ বন্ধ থাকায় সন্দেহ হয়। পরে দুপুরের দিকে পুলিশকে খবর দেয়া হয়।
কুমিল্লা কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশের ওসি (তদন্ত) সালাহ উদ্দিন বলেন, হাসপাতালের টয়লেটে গিয়ে ওই ব্যক্তি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ ভেতর থেকে টয়লেটের দরজা বন্ধ ছিল। পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি প্রেরণ করা হয়েছে।

ডিএনসিসি নির্বাচনে উইনেবল প্রার্থী খুঁজছি : কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে (ডিএনসিসি) মেয়র নির্বাচনের জন্য আওয়ামী লীগের প্রার্থীর সংকট নেই। তবে আমরা যে প্রার্থী জয়ী হতে পারবে, অর্থাৎ উইনেবল প্রার্থী আমরা খুঁজছি, কয়েকজনকে নিয়ে আমরা ভাবনা-চিন্তা করছি।’
ডিএনসিসি নির্বাচনে উইনেবল প্রার্থী খুঁজছি : কাদের
আজ বুধবার সচিবালয়ে সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, (ডিএনসিসি) নির্বাচনটা নিয়ম অনুযায়ী হবে। এখানে তড়িঘড়ি করে কিছু করার উপায় নেই। ৯০ দিনের মধ্যে ইলেকশন করতে হবে। এটা কারো এড়িয়ে যাওয়ার উপায় নেই।
‘বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, একটা মানুষ মরে গেল, মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে তড়িঘড়ি করে ইলেকশন দেয়া হচ্ছে। হয়তো তারা প্রস্তুত নয় ইলেকশনের জন্য। তারা প্রস্তুত না থাকলে নির্বাচন তো থেমে থাকবে না।
৫ জানুয়ারির নির্বাচনে তারা অংশ নেয়নি, নির্বাচন থেমে থাকেনি। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার অপবাদটা দিতে পারছে। কিন্তু আইপিইউ (ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন) সম্মেলন ও সিপিসি (কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি কনফারেন্স) হওয়ার পর তো এ অভিযোগ ধোপে টেকে না।’
আনিসুল হকের মতো যোগ্যপ্রার্থী খুঁজে পাওয়া কী সম্ভব হবে। প্রার্থী নির্বাচনে চাপ অনুভব করছেন কিনা-এমন প্রশ্নে কাদের বলেন, আওয়ামী লীগ দেশের একটি বড় ও পুরনো পার্টি। আওয়ামী লীগে প্রার্থীতার সংকট নেই। আমরা আনিসুল হককে দিয়েছিলাম তিনি বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের প্রশ্নে আমাদের কাছে ছিলেন। হয়তো তিনি সরাসরি রাজনীতি করেননি। মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে যারা বিশ্বাসী সে রকম প্রার্থীও আমরা দিতে পারি।
‘অথবা দলের মধ্য থেকেও আমরা নৌকার প্রার্থী...এবার তো বিভিন্ন পার্টির প্রতীকে নির্বাচন হবে। কাজেই আমরা গভীরভাবে চিন্তা-ভাবনা করছি। আনিসুল হক অনেকগুলো কাজ শুরু করে গেছেন। আমরা এখন এমন প্রার্থী দেব যে প্রার্থী আনিসুল হকের অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করবে এবং জনগণও বিশ্বাস করবে যে আনিসুল হকের কাজ এ ব্যক্তিকে দিয়ে সম্পন্ন করা সম্ভব। এমন ব্যক্তিকেই খোঁজা হচ্ছে।
তিনি বলেন, দলের ভেতরেও (প্রার্থী করা নিয়ে চিন্তা) করছি, আওয়ামী লীগ সমর্থক কিন্তু আওয়ামী লীগের নেতা নন এমন প্রার্থীদের নিয়েও ভাবনা-চিন্তা করছি। চূড়ান্ত হওয়ার আগে তো কিছু বলতে পারছি না। সিডিউল ডিক্লার হলে সময়মতো প্রার্থিতা ঘোষণা করব।
আনিসুল হকের পরিবার থেকে কাউকে প্রার্থী মনোনয়ন দেয়ার পরিকল্পনা আছে কিনা-জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, দেখুন পরিবারের লোকজন শোকের মধ্যে আছে। সবাইকে অনুরোধ করব এ প্রসঙ্গ থেকে আমরা আপাতত দূরে থাকার। তার পরিবারের মধ্যে কেউ প্রার্থী হবেন কি-না, সেই সময় আসুক।
মন্ত্রী বলেন, পরিবারের লোক হিসেবে আমরা কাউকে মনোনয়ন দেব না। আমরা মনোনয়ন দেব তাকে, যে নির্বাচনে জয়ী হতে পারবে।
উল্লেখ্য, ডিএনসিসির মেয়র আনিসুল হক গত ৩০ নভেম্বর বাংলাদেশ সময় রাত ১০টা ২৩ মিনিটে লন্ডনের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। গত ১ ডিসেম্বর থেকে ডিএনসিসি’র মেয়রের পদ শূন্য ঘোষণা করে সোমবার গেজেট প্রকাশ করা হয়।
বিএইচ

আজ মরমী সাধক হাসন রাজার মৃত্যুবার্ষিকী

আজ মরমী সাধক হাসন রাজার মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯২২ সালের ৬ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন তিনি। হাওর-বাওড় ও মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশের জেলা সুনামগঞ্জ ‘হাসন রাজার দেশ’ হিসেবেই পরিচিত। কিন্তু মরমী এই সাধকের জন্ম-মৃত্যুতে বরাবরই খুব একটা আয়োজন থাকে না সুনামগঞ্জে। পারিবারিকভাবেও কোনো অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়নি এ বছর।
১৮৫৪ সালের সালের ২১ ডিসেম্বর সুনামগঞ্জ শহরের লক্ষণশ্রীর ধনাঢ্য জমিদার পরিবারে জন্ম নেওয়া মরমী সাধক হাসন রাজা জীবদ্দশায় প্রায় ২শ গান রচনা করেছেন।
হাসন রাজার গানে সহজ সরল স্বাভাবিক ভাষায় মানবতার চিরন্তন বাণী যেমন উচ্চারিত হয়েছিল তেমনি আধ্যাত্মিক কবিও ছিলেন তিনি। সকল ধর্মের বিভেদ অতিক্রম করে তিনি গেয়েছেন মাটি ও মানুষের গান।
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও ১৯২৫ সালে কলকাতায় এবং ১৯৩৩ সালে লন্ডনে হিবার্ট বক্তৃতায় হাসন রাজার দুটি গানের প্রশংসা করেছিলেন। কিন্তু প্রখ্যাত এই মরমী সাধকের জীবন-দর্শন ও গানের চর্চা এখন আর প্রাতিষ্ঠানিকভাবে হয় না বললেই চলে।
হাসন রাজার মৃত্যু বা জন্মতারিখ ঘিরে প্রতিবছর এখানে লালনমেলার মতো সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় হাসনমেলারও দাবি তুলেছেন স্থানীয়রা।
হাসন রাজার প্রপৌত্র সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন হাসন রাজার গানের চর্চা কম হচ্ছে স্বীকার করে বললেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি হাসনরাজার গানের চর্চা বাড়ানোর’।

জ্যাককে কেন বাঁচানো হয়নি ব্যাখ্যা দিলেন নির্মাতা

হলিউডের সাড়া জাগানো সিনেমা টাইটানিক। ২০ বছর আগে দর্শকদের এই অসাধারণ সিনেমাটি উপহার দিয়েছিলেন নির্মাতা জেমস ক্যামেরন। সিনেমার বেশ কিছু দৃশ্য দর্শক হৃদয়ে নাড়া দেয়। বিশেষ করে ক্লাইমেক্স দৃশ্যে জ্যাকের (লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও) মৃত্যু মেনে নিতে পারেননি অনেকেই।
সিনেমা মুক্তির দীর্ঘ সময় পরেও জ্যাকের মৃত্যু দৃশ্যটি নিয়ে বিতর্ক রয়েই গেছে। অনেকেই মনে করেন, ইচ্ছে করলেই বাঁচানো যেত জ্যাককে। কারণ রোজ (কেট উইন্সলেট) যে পাটাতনের ওপর ভেসে ছিলেন সেখানে জ্যাকের জন্য যথেষ্ট জায়গা ছিল।
সম্প্রতি একটি ম্যাগাজিনে সাক্ষাৎকার দেন টাইটানিক সিনেমার পরিচালক জেমস ক্যামেরন। এ সময় দৃশ্যটি নিয়ে প্রশ্ন করা তাকে। জবাবে তিনি বলেন, ‘উত্তর খুবই সোজা কারণ চিত্রনাট্যের ১৪৭ নম্বর পৃষ্ঠায় বলা ছিল যে, জ্যাক মারা যাবে। খুবই সহজ। অবশ্যই এটি একটি সৃজনশীল ব্যাপার ছিল। পাটাতনটি রোজকে ভাসিয়ে রাখার জন্য যথেষ্ট বড় ছিল কিন্তু জ্যাককে নয়। আমি মনে করি সিনেমা মুক্তির ২০ বছর পর এসে এ ধরণের বিষয় নিয়ে আলোচনা করা বোকামি।’
তিনি আরো বলেন, ‘কিন্তু এতে প্রমাণ হয় সিনেমার মাধ্যমে জ্যাক এতটাই দর্শকের ভালোবাসা পেয়েছিলেন যে তার মৃত্যু দেখতে চাননি তারা। যদি সে বেঁচে থাকত তাহলে সিনেমার শেষটা অর্থহীন হয়ে যেত। সিনেমার গল্প মৃত্যু ও আলাদা হয়ে যাওয়ার গল্প নিয়ে। তাকে মরতে হতো। সেটা জাহাজের চিমনি মাথায় পড়ে অথবা যেভাবে হয়েছে, তাকে ডুবতে হতো। একেই বলে শিল্প। শিল্পগুণ বজায় রাখতে এই ঘটনাগুলো ঘটে, এটি পদার্থ বিজ্ঞানের নিয়মে হয় না।’
এর আগে সংবাদমাধ্যম ‘দ্য মিরর’-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডেলেইডের ওয়েস্টমিনস্টার স্কুলের ১০ ছাত্রী অঙ্কের হিসেব কষে জানান— জ্যাককে রীতিমতো বাঁচানো যেত। এই ছাত্রীদের বক্তব্য— জ্যাক আর রোজ যদি তাদের শরীরে লাইফ জ্যাকেট পরে পাটাতন ধরে ভেসে থাকত, তা হলে তাদের মরতে হতো না। ন্যাশনাল ম্যাথস ট্যালেন্ট কোয়েস্টে অংশ নেয়া ওই ছাত্রীরা জানায়, দরজার প্লবতাকে হিসেব করে তারা দেখেছে, যদি তার উপরে লোক চড়ে বসে, তবে তা ভেসে থাকার ক্ষমতা কমে না। বরং তা বেড়ে যায়। সুতরাং জ্যাক ও রোজ দুজনেই বাঁচতে পারতেন। আর সিনেমায় দেখা যায়, জ্যাক তলিয়ে যাওয়ার খানিক পরেই রোজকে উদ্ধার করে একটি লাইফ বোট। সুতরাং জ্যাক পাটাতনে থাকলে সেও উদ্ধার পেত।

যে শার্ট গায়ে নেট দুনিয়ায় ভাইরাল কারিনা!

কারিনা কাপুর খান। বলিউডের হার্টথ্রুব অভিনেত্রীদের একজন।

পতৌদি নবাবের পুত্রবধূ এবার ১৪০০ মার্কিন ডলারের শার্ট গায়ে ঝড় তুললেন। আর তার এ দামি শার্ট পরিহিত ছবি ভাইরাল হয়ে গেছে নেট দুনিয়ায়।
সাধারণত ছিমছাম ক্যাজুয়্যাল পোশাকেই দেখা যায় কারিনা কাপুর খানকে। সম্প্রতি একটি পার্টিতে গিয়েছিলেন কারিনা কাপুর। যেখানে ইটালিয়ান ফ্যাশান ব্রান্ড গুসির একটি হলুদ রঙের প্রিন্টেড রেশম শার্ট পরতে দেখা যায় নায়িকাকে।
কারিনার এই শার্টের দাম শুনলে আপনিও হয়ত আঁতকে উঠবেন। ১৪০০ মার্কিন ডলার যা বাংলাদেশি মুদ্রায় এক লাখ ১৭ হাজার টাকা।
এর আগে, একবার মুম্বাই এয়ারপোর্টে হালকা আকাশি রঙের সমুদ্র সৈকতের ছবি আঁকা একটা টি-শার্ট ও হলুদ টি-শার্ট পরতে দেখা গিয়েছিল সাইফ আলী খানের স্ত্রীকে।

ক্যাটরিনাকে প্রথম দেখার মুহূর্তের কথা শেয়ার করলেন সালমান

বলিউডের এক সময়ের অন্যতম সেরা জুটি সালমান খান এবং ক্যাটরিনা কাইফের প্রথম দেখা হয়েছিল ঠিক ১৬ বছর আগে। ক্যাটরিনার সঙ্গে প্রথম দেখা হওয়ার মূহুর্তের স্মৃতি সম্প্রতি শেয়ার করেছেন ভাইজান।
আসন্ন ‘টাইগার জিন্দা হ্যায়’ ছবিতে স্ক্রিন শেয়ার করছেন সালমান ও ক্যাটরিনা। সম্প্রতি এই ছবির প্রচারে সল্লু মিঞা বলেন, ‘বাড়ির একটা পার্টিতে প্রথম ক্যাটরিনাকে দেখেছিলাম। ওকে দেখে মনে হয়েছিল, পৃথিবীর মিষ্টি মেয়েদের একজন, আমার বোন এবং বন্ধুদের সঙ্গে ওর আলাপ ছিল। কিন্তু ও আমাকে চিনত না।’
আলি আব্বাস জাফরের পরিচালনায় ‘টাইগার জিন্দা হ্যায়’-র ট্রেলারে সলমন-ক্যাটরিনার কেমিস্ট্রি ইতিমধ্যেই পছন্দ হয়েছে দর্শকদের। আগামী ২২ ডিসেম্বর মুক্তি পাবে এই ছবি।

বলিউড তারকাদের চোখের জলে বিদায় শশী

ভারতীয় চলচ্চিত্রের আকাশে অস্তমিত শশী। শূন্যতা ঢেকে দিয়েছে বলিউডের একটা অধ্যায়কে।
এই শূন্যতার যোগ্য সঙ্গত যেন এদিন দিয়েছে মুম্বাইয়ের মেঘলা আকাশ, বিদায়ের দিনের বৃষ্টি। কারোর সতীর্থ তো কারোর সঙ্গে আত্মার যোগ ছিল তাঁর। কেউ কেবলমাত্র অভিনেতা শশী কাপুরকেই প্রাণ ঢেলে শ্রদ্ধা করে গিয়েছে, সেক্ষেত্রে সম্পর্ক গড়ে উঠেছে অভিনয় সূত্রেই।
এরকম অনেক সম্পর্ককে সামনে রেখেই কাপুর পরিবারে স্বনামধন্য় সদস্য শশী কাপুরকে চোখের জলে শেষ শ্রদ্ধা জানায় বলিউড। শবদেহ পৃথ্বীরাজ থিয়েটারে খানিকক্ষণ শায়িত রাখার পর তাঁকে অন্ত্যেষ্টি ক্রিয়ার উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়। শেষকৃত্যে উপস্থিত ছিলেন শাহরুখ থেকে অমিতাভ বচ্চন , উপস্থিত ছিলেন কাপুর পরিবারের সদস্যরাও।
রাজ কাপুরের ছোট ভাই তথা পৃথ্বীরাজ কাপুরের কনিষ্ঠ সন্তান শশী কাপুরের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয় সান্তাক্রুজের ক্রিমেটোরিয়ামে। শেষকৃত্যে হাজির ছিলেন শশী কাপুরের সন্তান কুণাল সমেত কাপুর পরিবারের সদস্যরা। হাজির ছিলেন বলিউডের বহু বিখ্যাত ব্যাক্তিত্ব।
‘মেরে পাস মা হ্যায়’, ‘দিওয়ার’ ছবির এই বিখ্যাত সংলাপ আর স্ক্রিন জুড়ে তখন অমিতাভ বচ্চন আর শশী কাপুর। সেই দৃশ্যেকে মনে রাখলে , এদিনের ছবিটা সত্যিই মন ভারাক্রান্ত করার মত। শশী কাপুরের শেষকৃত্যের সকালে হাজির ছিলেন অমিতাভ বচ্চন।
মুম্বাইয়ের কোকিলবেন হাসপাতাল থেকে শবদেহ নিয়ে যাওয়ার সময়েও শশী কাপুরের শুভাকাঙ্খীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। সকালেই হাসপাতাল থেকে শেষকৃত্যের উদ্দেশে রওনা হয় শশী কাপুরের শবদেহ। আর তার আগে হাসপাতালে পৌঁছান করিশমা কাপুর।
সম্পর্কে তিনি কারিনার দাদু হন। কাপুর পরিবারের বড্ড আদরের সদস্য ছিলেন শশী কাপুর। শুধু তাই নয়, সাইফ আলি খানেরও প্রাণের নায়ক ছিলেন তিনি। একবার সিনেমার শশী কাপুর মার খাচ্ছেন দেখে, ভিলনকে মারতে উদ্যত হন ছোট্ট সাইফ আলি খান। আর এহেন পছন্দের কিংবদন্তী নায়ককে শেষ বারের মতো দেখতে সাইফ-কারিনা দুজনেই ছুটে যান হাসপাতালে।
শশী কাপুরের মৃত্য়ুর খবর জানতেই রাতে কোকিলাবেন হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা হন বিগ বি অমিতাভ বচ্চন। সঙ্গে ছিলেন ছেলেন অভিষেক, ও ঐশ্বরিয়া। সম্পর্কে তাঁর আত্মীয় রণধীর কাপুরকে নিয়ে গতরাতেই সোজা কোকিলবেন হাসপাতালে পৌছান অভিনেতা রণবীর কাপুর।

অপুকে কী পরামর্শ দিলেন তসলিমা নাসরিন?

অপু বিশ্বাসকে সম্প্রতি ডিভোর্সের নোটিশ পাঠিয়েছেন শাকিব খান। সেই ঘটনা এখন টক অব দ্য কান্ট্রি। এ নিয়ে নিজের মত জানালেন লেখিকা তসলিমা নাসরিন। ফেসবুকে ভেরিফায়েড পেজে তসলিমা লেখেন, ‘বাংলাদেশের ছবির হিরো শাকিব তালাক দিচ্ছে বাংলাদেশের ছবির হিরোইন অপু বিশ্বাসকে। অপুর দোষ, অপু তার স্বামীর নির্দেশ পালন করেনি, তার কথা শোনেনি।’
তিনি আরো লেখেন, ‘শাকিবকে ভালোবেসে অপু নিজের ধর্ম ছেড়ে শাকিবের ধর্ম গ্রহণ করেছে, শাকিবের বাড়িতে ঝি চাকরের মতো কাজকর্ম করেছে। শাকিব বিয়ের ব্যাপারটা লুকিয়ে রাখতে বলেছে বলে লুকিয়ে রেখেছে, বাচ্চা হওয়ার খবরটাও লুকিয়ে রাখতে বলেছে বলে দীর্ঘকাল লুকিয়ে রেখেছে, বাচ্চা হওয়ার সময় শাকিব হাসপাতালে যায়নি তারপরও শাকিবের জন্য অপুর ভালোবাসা কিছু কমেনি। এখন বাচ্চা কোলে মেয়েটি পাচ্ছে তালাকনামা। শাকিবের মতো আত্মম্ভরী পুরুষতান্ত্রিকের সঙ্গে তালাক হয়ে যাওয়া অবশ্য ভালো। স্বনির্ভর মেয়ে নিজের দেখভাল নিজেই করতে পারে।’
তসলিমা বলেন, ‘শাকিবের জন্য কান্নাকাটি হাহুতাশ বন্ধ করতে হবে অপুকে। আপাতত অপু বিশ্বাসের কোনো পুরুষকে বিশ্বাস করা উচিত নয়। হজ্ব করাও উচিত নয়। মানুষের পায়ের তলায় পিষ্ট হয়ে মরে যাওয়ার আশঙ্কা ছাড়া ওতে সত্যিকার কোনো ফায়দা নেই। অপুকে এখন নিজের পায়ের তলার মাটি যেমন আরো শক্ত করতে হবে। মনের ভেতরের মাটিও আরো শক্ত করতে হবে। পায়ের তলার মাটি, মনের ভেতরের মাটি— দুটোই এমন নরম যে, যে কেউ তাদের ডুবিয়ে দিতে পারে কাদায়, যে কেউ আবার তাদের মনেও অনায়াসে ডুবে যেতে পারে।’
বছরখানেক অন্তরালে থাকার পর ১০ এপ্রিল একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে এসে বিয়ে ও সন্তানের খবর ফাঁস করেন অপু। জানান, ২০০৮ সালের ১৮ এপ্রিল বিয়ের পিঁড়িতে বসেছিলেন তিনি ও শাকিব খান। কলকাতার একটি ক্লিনিকে ২০১৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর জন্ম হয় ছেলে আব্রাম খান জয়ের।
এ খবর প্রকাশের পর থেকে শাকিবের সঙ্গে অপুর দূরত্ব তৈরি হয়। তখন থেকেই ছেলেকে নিয়ে রাজধানীর নিকেতনের বাসায় অপু থাকছেন।

শেখ হাসিনার সাহায্য চান অপু বিশ্বাস

স্বামী শাকিব খানের তালাকের নোটিশ পাঠানোর ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহায়তা চাইলেন চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস। বুধবার একটি জাতীয় দৈনিকের সাথে আলাপকালে শাকিবের তালাককাণ্ডে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত সহনশীল ও সুবিবেচনাপ্রসূত মনের মানুষ। তাঁর সহমর্মিতা অতুলনীয়। শাকিবের একরোখা সিদ্ধান্তে আমার জীবন এখন বিপন্ন। প্রধানমন্ত্রীর সদয় হস্তক্ষেপই এই দুর্বিষহ অবস্থা থেকে আমাকে মুক্ত করতে পারে।’
এছাড়া মানবাধিকার ও নারী সংগঠনগুলোকেও পাশে চান অপু। বলেন, ‘সেলিব্রেটি হলেও আমার সামাজিক মর্যাদা আছে। ডিভোর্সের মতো একটি ন্যক্কারজনক সিদ্ধান্ত কখনো মেনে নেয়া যায় না। সংসারে ঝগড়া, ঝামেলা থাকাটা স্বাভাবিক। একই ধর্মের হলে শাকিবের সিদ্ধান্ত মেনে নিতাম। সে আমাকে জোর করে ধর্মান্তরিত করে বিয়ে করেছে। কাজেই, তার এই অমানবিক সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই মেনে নেব না।’
হতাশা ব্যক্ত করে নায়িকা বলেন, ‘নিজের ধর্ম ত্যাগ করে শাকিবকে বিয়ে করেছি। এখন সে আমাকে তালাক দিতে চাচ্ছে। এখন আমি কোথায় গিয়ে দাড়াব? আমার সম্প্রদায় তো এখন আর আমাকে স্বাভাবিকভাবে মেনে নেবে না।’
উল্লেখ্য, একাধিক অভিযোগ এনে গত ২২ নভেম্বর আইনজীবী শেখ সিরাজুল ইসলামের মাধ্যমে অপু বিশ্বাসকে তালাকের নোটিশ পাঠান শাকিব খান। প্রায় ১২ দিন পর গত সোমবার বিকালে সেটা প্রকাশ্যে আসে। নোটিশ পাঠানোর তারিখ থেকে তিন মাস পরে এই তালাক কার্যকর হবে।